শব্দ মুকুর সাক্ষাত্কার - শাহরিয়ার নাফিস
শব্দ মুকুর সাক্ষাত্কার
বিশেষ
আলাপনে শাহরিয়ার নাফিস
সঞ্চালনা:
তানজীনা ফেরদৌস
সাবেক বাংলাদেশি ক্রিকেটার শাহরিয়ার নাফিস আহমেদ বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ক্রিকেট অপারেশন্স ম্যানেজার এর দায়িত্বে আছেন। বাংলাদেশ দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে ২০০৫ সালে তার অভিষেক ঘটে। বাংলাদেশ দলের প্রথম ইংল্যান্ড সফরে তিনি দলভুক্ত হন। এর আগে ৫টি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা তার ছিল। জাতীয় দলে অভিষেকের আগে তিনি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের হয়ে খেলেন। শব্দ মুকুরের এবারের সংখ্যায় তাঁর সাথে বিশেষ আলাপচারিতায় তানজীনা ফেরদৌস।
তানজীনা ফেরদৌস: আপনার ক্রিকেট যাত্রা কীভাবে শুরু হয়েছিলো?
শাহরিয়ার নাফিস: ক্রিকেট আমাদের পরিবারের মধ্যেই ছিলো। জন্মের পর থেকেই
দেখেছি আমার খালাতো ভাইয়েরা, মামাতো ভাইয়েরা
ক্রিকেট খেলতেন। খালাতো ভাইদের মধ্যে ফারুক আহমেদ ছিলেন ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন।
তিনি প্রধান নির্বাচক ও বিসিবি
প্রেসিডেন্ট ছিলেন। আমি ছোটবেলায় ফারুক ভাইয়ের খেলা দেখে নিজেও ক্রিকেটার হওয়ার
স্বপ্ন বুনতাম। সেই সাথে
আমার পরিবার ও
ভাইয়েরা আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে। আমার ক্রিকেট খেলার প্রথম স্মৃতি, ১৯৯২ সালের ওয়ার্ল্ড কাপ, যেটা অস্ট্রেলিয়ায় হয়েছিলো। মনে আছে, আব্বা সেহরির সময় উঠতেন। আব্বার সাথে উঠতাম, সেহরি খেতাম তারপর নামাজ পড়ে ক্রিকেট খেলা
দেখতাম।
ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট খেলা পছন্দের ছিলো। যেহেতু কাজিনরা
খেলতেন এবং তাদের অনুপ্রেরণা ছিলো। সবমিলিয়ে ক্রিকেট আমার ধ্যান জ্ঞান হয়ে
গিয়েছিলো। তারপর ১৯৯৩
সালে আব্বার পোস্টিং এর কারণে যশোর থেকে ঢাকা চলে আসি। সেই সময় ফারুক ভাইদের
বাসায় আমরা থাকতাম। ফারুক ভাইয়ের বাসার ছাদে নেট ছিলো। ওখানেই প্রথম ব্যাটিং করা
শুরু। তার আগে মাঠে খেলতাম, কিন্তু শুরুটা
এভাবেই করেছিলাম। ফারুক ভাইয়ের বড় ভাই (বাবু ভাই) প্রথম আমাকে ব্যাটিং
শিখিয়েছিলেন। পরে ১৯৯৫-৯৬ সালে আমার কোচ ওয়াহিদ স্যারের একাডেমিতে ভর্তি হই। এভাবেই ক্রিকেট খেলা শুরু
করি। খুব ছোটবেলায় আম্মা মাঠে নিয়ে যেতেন। এভাবেই খেলতে খেলতে আন্ডার ফিফন্টিন, আন্ডার সিক্সটিন, আন্ডার সেভেন্টিন, আন্ডার
নাইন্টিন ন্যাশনাল টিম তারপর বাংলাদেশ ন্যাশনাল টিম।
তানজীনা ফেরদৌস: আপনার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত কোনটি?
শাহরিয়ার নাফিস: যেদিন ন্যাশনাল দলে চান্স পেয়েছিলাম, খুব সম্ভবত ২০০৫ সালের এপ্রিল মাস। ১৪ থেকে ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রামে একটা খেলা ছিলো। সেবার প্রথম জাতীয় দলে সুযোগ পাই, খুব সম্ভবত ১৬ অথবা ১৭ই এপ্রিল। সেটা আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা দিন। বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলার যেহেতু সৌভাগ্য হয়েছে প্রতিটি দিনই আমার জন্য স্মরণীয় মুহূর্ত ছিলো। তবে যদি নির্দিষ্ট করে বলতে হয়, তাহলে অস্ট্রেলিয়ার সাথে ফতুল্লায় ২০০৬ সালের টেস্ট হান্ড্রেট, এটি অন্যতম একটি ঘটনা। প্রথম বাংলাদেশী হিসাবে আমি ২০১৩ সালে টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরি করেছিলাম সেটাও আমার জন্য একটি স্মরণীয় ঘটনা। এছাড়া ২০০৬ সালে আমি প্রথম বাংলাদেশি হিসাবে টি-টোয়েন্টি দলের ক্যাপ্টেন ছিলাম। এগুলো আমার ক্যারিয়ারের স্মরণীয় ঘটনা। স্মরণীয় ঘটনার কথা বলতে গেলে এই তিনটি ঘটনাকে অবশ্যই বলতে হবে।
তানজীনা ফেরদৌস: ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন নিলেন?
শাহরিয়ার নাফিস: দেখুন প্রত্যেকটা জিনিস যখন শুরু হয় তখন সেটির শেষও আছে। ক্রিকেট খেলা শুরু করেছিলাম
যখন আমার বয়স দশ ছিলো। এরকম খেলতে খেলতে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলেছি, তারপর জাতীয় দলে খেলেছি, ঘরোয়া দলে খেলেছি। আমার সব সময় মনে হতো আমি এমন একটা
অবস্থাতে ক্রিকেট খেলা ছাড়তে চাই যখন আমি মনে করবো খেলাটা চালিয়ে যাওয়া ঠিক হবে
না বা অন্যভাবে যদি বলতে যাই ক্রিকেট খেলাটা আমাকে ছেড়ে দেওয়ার আগে যাতে আমি
ক্রিকেট খেলাটা ছাড়তে পারি।
২০১৯ সালে ক্রিকেট খেলেছি, ২০২০ সালে ফেব্রুয়ারিতে সর্বশেষ টুর্নামেন্ট খেলি। এরপর
যখন কোভিড শুরু হয় এক দেড় বছর ঘরোয়া কোনো ক্রিকেট ছিলো না। ২০২১ সালে যখন আমার
বয়স ৩৬, তখন আমার মনে
হয়েছে খামোখা আর আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ার চালিয়ে যাওয়ার দরকার নেই। কারণ আমি
বুঝতে পেরেছিলাম হয়তো আমার আর জাতীয় দলে খেলা হবে না। আর পাশাপাশি ঘরোয়া
ক্রিকেটে আমার মনে হয়েছে আমার ফিল্ড ক্যারিয়ার আসলে আর সামনে যাবে না। এইজন্য
আমি আসলে ডাইভারসান চেয়েছিলাম। আবার চাইলাম নতুন ক্যারিয়ারটা দ্রুত শুরু করতে।
সেই সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আমাকে ক্রিকেট অপারেশন ডিপার্টমেন্ট এর পদটি অফার
করে। চিন্তা করলাম- যেহেতু আমি ক্রিকেট দীর্ঘদিন খেলেছি, ক্রিকেটে কনট্রিবিউট করারও সুযোগ আছে, ক্রিকেটের সাথেও থাকতে পারবো তাহলে মন্দ কী! দ্বিতীয়বার
চিন্তা না করে অফারটি গ্রহণ করলাম। এমন একটি সময়েই আমি ২০২১ সালে ক্রিকেট থেকে
অবসর গ্রহণ করি।
তানজীনা ফেরদৌস: ক্রিকেট খেলার বাইরের জীবন কেমন উপভোগ করছেন?
শাহরিয়ার নাফিস: আমি আলহামদুলিল্লাহ অবসরের পর ভালো আছি। রিটায়ার করেছি, কিন্তু ক্রিকেট থেকে সরে যাইনি। আল্লাহর অশেষ
রহমতে এমন একটা কাজ করার সুযোগ পেয়েছি যেখানে দীর্ঘদিন ক্রিকেট নিয়ে খেলার
অভিজ্ঞতা, ক্রিকেট নিয়ে
চিন্তা চেতনা, জ্ঞান দর্শন
শেয়ার করার সুযোগ আছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আমাকে সেই সুযোগটা দিয়েছে
ক্রিকেটের সাথে থাকার। ক্রিকেট নিয়েই আছি ভালো আছি। আর ক্রিকেট যখন খেলতাম অনেক
ব্যস্ত থাকতে হতো। পরিবারকে সেভাবে সময় দিতে পারতাম না। এখন স্ত্রী, বাচ্চাদেরকে অনেক সময় দিতে পারি, সোশ্যালি অনেক সময় দিতে পারি।
আরেকটা বিষয়ে আমি খুবই স্যাটিসফাইড- আমি ক্রিকেট খেলা
ছেড়েছি কিন্তু ক্রিকেটের মানুষগুলো আমার থেকে সরে যায়নি। কারণ ক্রিকেট বোর্ডে
চাকরি করছি। প্রত্যেকটা মানুষের সাথে আমার দশ বছর বয়স থেকেই সম্পর্ক। এক সময়
খেলোয়াড় হিসেবে ছিলাম এখন ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তা হিসেবে আছি। জায়গা চেঞ্জ
হয়নি, পরিবেশ চেঞ্জ হয়নি, মানুষগুলোও চেঞ্জ হয়নি, শুধুমাত্র আমার ভূমিকাটা বদলেছে। আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহর
অশেষ রহমতে আমি ভালো আছি।
তানজীনা ফেরদৌস: কোনো বিশেষ খেলোয়াড় বা কোচ কি আপনার উপর প্রভাব ফেলেছিলেন?
শাহরিয়ার নাফিস: অবশ্যই আমরা যখন ক্রিকেট খেলা শুরু করি তখন কাউকে না কাউকে
অনুসরণ করি এবং তার মতোই হতে চাই। ছোটবেলায় একদম লাইফ টাইম হিরো ব্রায়ান লারা, তার মতো হতে চাইতাম। তারপর শচীন টেন্ডুলকার।
এরপর ক্যারিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ে ম্যাথিউ হেডেন, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, কুমারা
সাঙ্গাকারার মতো বাঁহাতি খেলোয়ারদের খেলা খুব পছন্দ করতাম। তাদের থেকে ভালো ভালো
বিষয়গুলো শেখার চেষ্টা করতাম। আর কোচের কথা যদি বলতে হয়, আমার গুরু
অহিদুল গনি স্যার, তিনি আমার লাইভ
লং মেন্টর, যে আমাকে ধরে
ধরে খেলাটা শিখিয়েছেন।
পরবর্তীতে যে কোচের কথা অবশ্যই বলতে হবে তার একজন হলেন রিচার মেকিনস, তিনি আমার আন্ডার নাইন্টিন কোচ ছিলেন। তিনি আমার গড়ে ওঠার পেছনে অবদান রেখেছেন, আমাকে ফাইট করতে শিখিয়েছেন, ইন্টারন্যাশনাল টুর্নামেন্টে কিভাবে টিকে থাকতে হয় সেই জিনিসটাও তিনি শিখিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে নাজমুল আবেদীন ফাহিম স্যার অনেকদিন আমার ব্যাটিং কোচ ছিলেন। এই মানুষগুলোর কথা বলতেই হবে।
তানজীনা ফেরদৌস: বর্তমান ক্রিকেট দল বা খেলোয়াড়দের সম্পর্কে আপনার মতামত কী?
শাহরিয়ার নাফিস: একজন প্রাক্তন ক্রিকেটার হিসাবে আমি আপকামিং ক্রিকেটারদেরকে
যে পরামর্শটা দিতে চাই তা হলো,
প্রথমত অনেক
বড় স্বপ্ন দেখতে হবে। অনেক বড় খেলোয়াড় হওয়ার চিন্তা করতে হবে। আমরা অনেক সময়
চিন্তা করি ক্লাব ক্রিকেট খেলবো বা জাতীয় দলে খেলবো। আমাদের স্বপ্ন যদি এমন থাকে
তখন হয় কি, যখন জাতীয় দলে
ঢুকলাম তখন হয়তো আমার বড় দলে ঢোকার আর আগ্রহ বা চেষ্টা থাকে না। এজন্যই আপকামিং
ক্রিকেটারদের ভাবতে হবে যে, তাদের
বিশ্বসেরা ক্রিকেটার হতে হবে। যদি তারা এটা ভাবতে পারেন তাহলে ক্রিকেটে তাদের
দূরদর্শিতা ও তাদের পরিশ্রমের মাত্রা এবং স্যাক্রিফাইসের লেভেলটাও দীর্ঘ হবে। যার
ফলশ্রুতিতে তারা অনেক বড় ক্রিকেটার হতে পারবেন।
ক্রিকেট খেলায় অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে, পরিশ্রম ছাড়া ক্রিকেট খেলায় কোনো সাফল্য আসা সম্ভব নয়। সব কোচ-ই বলেন, যে কোনো খেলায় দশ থেকে বিশ ভাগ সাফল্য বাকি আশি ভাগ ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতা মেনে নিতে হবে আর এই বিশ সাফল্য আসলে এতোটাই মধুর যে বাকি আশি ভাগ ব্যর্থতা বিলীন করে দেয়। পরিশ্রম করতে হবে, বড় স্বপ্ন দেখতে হবে আর স্যাক্রিফাইস করতে হবে। আমার ছোটবেলার অনেক কিছু মনে পড়ে। যেমন পরিবারের সাথে কোনো দাওয়াতে যেতে পারিনি, বন্ধু বান্ধবের সাথে আড্ডা দিতে পারিনি। আবার ছাত্র জীবনের যে মজার মজার ঘটনা বা অভিজ্ঞতা এমন অনেক কিছুই স্যাক্রিফাইস করতে হয়েছে খেলার জন্য। আমার কাছে মনে হয় ক্রিকেট খেলার সময় হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ বছর। এই ৫ বছরে যদি আমরা স্যাক্রিফাইস করতে পারি তাহলে সাফল্য সম্ভব ।
তানজীনা ফেরদৌস: ক্রিকেট খেলার উন্নতির জন্য আপনার কী পরামর্শ রয়েছে?
শাহরিয়ার নাফিস: আমি মনে করি বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে প্রতিভাবান
মানুষের অভাব নেই বর্তমানে বাংলাদেশ টিমে যারা খেলছেন তারা অনেক প্রতিভাবান। তাদের
পরিশ্রম ও প্রতিভা দিয়ে তারা বাংলাদেশকে অনেক দূরে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন।
আমরা যখন ছোটবেলায় খেলা দেখেছি, ফারুক ভাই, আকরাম ভাই, নান্নু ভাই, উনাদের খেলা
দেখেই ক্রিকেট খেলায় অনুপ্রেরণা পেয়েছি। এরপর খেলা শুরু করেছি।
যখন জাতীয় দলে খেলেছি, আমি আশরাফুলসহ আমাদের দলটা একটি পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে।
পরবর্তীতে মাশরাফি ভাই, সাকিব, তামিম, রিয়াদসহ ওদের
টিম বাংলাদেশকে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। এখন যারা খেলছে তাদের সক্ষমতাও
অনেক, তারাও পরিশ্রমী। তারা যদি
তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে খেলতে পারে এবং পরিশ্রম করতে পারে, স্বপ্ন দেখতে পারে, তাহলে তাদের সাফল্যে বাংলাদেশি দল বিশ্বের সেরা একটি দল
হয়ে উঠতে পারবে এটিই আমার বিশ্বাস।
তানজীনা ফেরদৌস: ক্রিকেট খেলার ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনি কী ভাবছেন?
শাহরিয়ার নাফিস: আমি মনে করি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ক্রিকেট খেলার ভবিষ্যৎ
খুবই উজ্জ্বল। ক্রিকেট বাংলাদেশকে সারা বিশ্বে পরিচিত করেছে। বিশেষত, যদি বলতে হয় সাকিব আল হাসান ১৩ বছর বিশ্বের এক
নাম্বার অলরাউন্ডার ছিলেন।আমার মনে হয় না বাংলাদেশ অন্য কোনো ক্ষেত্রে এতোটা
পরিচিতি পেয়েছে।
আমি মনে করি ক্রিকেট বাংলাদেশের একটি গৌরবের জায়গা। ক্রিকেট বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে এবং এই যাত্রা অব্যাহত থাকবে। এখন হয়তো আমরা রাংকিংয়ে সাত বা আট এর মধ্যে থাকি। একটা সময় বাংলাদেশ বিশ্ব রাংকিংয়ে শীর্ষ চার এর মধ্যে থাকবে ইনশাল্লাহ। আমি এটা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি এবং এমনটি হবেই। এই অগ্রযাত্রা চলতেই থাকবে।
স্বত্ব - শব্দ মুকুর ই-পত্রিকা
শব্দ মুকুর ই-পত্রিকা শ্রাবণ ১৪৩২ সংখ্যায় প্রকাশিত

.jpg)



Comments
Post a Comment
Thank you for your comment and interest in shobdomukur.com. One of our editorial team members will respond to your comment.